রাধাকান্ত মন্ডল, নিউ দিল্লী।
তারিখ: 16.09.2024
হৃদয়ের স্পন্দনের সাথে লেখা, সৃষ্টির সাথে মিলে মিশে
একমাত্র শ্রী হরি ছাড়া এ জগতে কেউ তো আর সর্বগুন সম্পন্য নহে
যিনি মহাকাব্য "গীতা"
সময় কাল ভুলিয়া মহাভারতের রণাঙ্গন কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে রচনা করেছিলেন।
মাঝ রণাঙ্গনে অর্জুন যুদ্ধ করিতে রাজি না হইলে
পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী কৃষ্ণ; অর্জুন কে সম্বোধন করিয়া কহিলেন,
হে পার্থ, তুমি কি জানো এই যুদ্ধের কেনো প্রয়োজন?
আর এত জন হানীরই বা কি প্রয়োজন?
তুমি যদি এই মহাযুদ্ধ করিতে একান্তই রাজি না হও, তবে আমি স্বয়ং এই যুদ্ধ করিব।
তুমি জেনো, আমি নিজে এই সৃষ্টি চরাচর রচনা করিয়াছি।
পাপী আর দুষ্টদের দমন করিয়া আমি পৃথিবীতে পুনঃ ধর্মের স্থাপনা করিব।
তুমি জেনো, ধর্ম রক্ষার্থে আমি যুগে যুগে এই পৃথিবীতে অবতারিত হই।
আমি আগেও বহুবার অবতার নিয়াছি এবং যুদ্ধ করিয়াছি
এবং অধার্মিক ও দুষ্টদের দমন ও বিনাস করিয়া
পৃথিবীতে পুনঃ পুনঃ ধর্ম স্থাপন করিয়াছি।
অসুররা যাতে অমর না হয়,
ছলে বলে কৌশলে তাদের হাত থেকে অমৃতের পাত্র কাড়িয়া লইয়াছি।
মৎস্য রূপে অবতার লইয়া আমি পৃথিবীকে মহা প্রলয় হইতে রক্ষা করিয়াছি।
কুর্ম রূপে অবারিত হইয়া সমুদ্র মন্থনের সময় মন্দার পর্বত কে নিজ পিঠে ধারণ করিয়াছি।
বরাহ রূপে পৃথিবীকে হিরন্নাক্ষ
রাক্ষসের হাত হইতে রক্ষা করিয়াছি।
নৃসিংহ রূপে আমার পরম ভক্ত প্রহ্লাদ কে আমার চির বিদ্বেষী হিরন্যকশ্যপ কে বধ করিয়াছি।
বামন রূপে আমি, বলী রাজের অহংকার চূর্ণ করেছি,
আমার তিন পদে স্বর্গ, মর্ত, পাতাল এই ত্রিভুবন পুনঃ ফেরৎ লইয়াছি।
পরশু রাম রূপে, বহুবার পৃথিবী ক্ষত্রিয় শূন্য করিয়া ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।
পুরুষোত্তম রাম রূপে অবতারিত হইয়া লঙ্কার রাজা রাবণ কে বধ করিয়া আদর্শ রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করিয়াছি।
মথুরা নগরীতে মামা কংশকে হত্যা করে সমস্ত যাদব কুলকে রক্ষা করিয়াছি।
তুমি জানো, বাল্যাবস্থায় পুতনা আদি কত অসুর আর দানব কে বধ করিয়া আমি যমালয়ে পাঠাইয়াছি।
কালিয়া নাগকে দমন করিয়া যমুনার জল বিষ মুক্ত করিয়াছি, সমগ্র গোকুল বাসীকে ভয় মুক্ত করিয়াছি।
মহাভারতের এই যুদ্ধ প্রারম্ভ হইবার পূর্বে আমি আমার প্রবল শত্রু শিশুপাল কে বধ করিয়াছি।
এই যুদ্ধে যাতে তুমি অজেয় হও আমি
অগ্রজ মহাবলি ভীমের হস্তে জরাসন্ধকে বধ করাইয়াছি।
কর্নের কবচ কুণ্ডল আদি আমি ইতি পূর্বেই কাড়িয়া লইয়াছি।
এই যুদ্ধে অশ্বত্থামা ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেহ তোমার চরম ক্ষতি করিতে পারিবেনা।
যদিও দাদা বলরাম এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিবেন না,
তুমি তাহাতে কিঞ্চিৎ চিন্তিত হইও না।
ওঠো পার্থ তোমার দিব্য গান্ডিব ধনু হাতে তুলিয়া নেও তুমি।
কৌরব পক্ষের বিশাল সেনা বাহিনী দেখিয়া ভিত হইওনা তুমি।
যুদ্ধ করিতে প্রস্তুত হও।
আমি তোমার রথের সারথি।
তোমার আগে শরাঘাতে আমাকেই জর্জরিত হইতে হবে।
সমস্ত শরাঘাত হইতে আমাকে রক্ষা করিবার দায়িত্ব তোমার
কিন্তু, হে পার্থ।
তুমি চেয়ে দেখো আমাদের রথের বিজয় পতাকা স্বয়ং বীর হনুমান নিজ হাতে ধারণ করিয়া রাখিয়াছেন।
তুমি জেনো এ মহা সমরে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।
হে পার্থ আমার উপর পূর্ণ আস্থা রাখো তুমি, এ যুদ্ধে তুমি কখনও পরাজিত হইবেনা।
আমি সর্ব শক্তিমান পুরুষোত্তম ভগবান সৃষ্টি স্থিতির অধিকারী।
এই ভূমন্ডলের সৃষ্টি কর্তা আমি। আমি সৃষ্টিও করি সংহারও করি।
দ্বাপরে আমি পুনঃ অবতার গ্রহণ করিয়াছি।
অতঃ এব আমার উদ্দেশ্য অবগত হও তুমি।
"যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনম সৃজম্যাহম।
পরিত্রানায় সাধুনাম বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম।
ধর্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে"।
হে পার্থ, হে বৎস তুমি আমার বৃহৎ রূপ দর্শন করো।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আর অর্জুনের এই সম্ভাষণ কালে
উভয় পক্ষের সৈন্য দল আর তাদের সৈন্য অধ্যক্ষেরা
সবাই মুক বধির দর্শক ছিল মাত্র,
তাদের সর্ব জ্ঞান শক্তি ভুলিয়া
ভগবান শ্রী কৃষ্ণের মায়া জালে আবদ্ধ হইয়া।
কিন্তু মায়ের এক করুন আর্তি
আর তার প্রচন্ড অভিশাপের কারণ
স্বয়ং ভগবান ও রেহাই পান নি, নিজ কর্ম ফলে।
ভগবানের প্রতি গান্ধারীর তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছিল হে সর্ব শক্তিমান পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,
তুমি চাইলে কি এই মহাযুদ্ধ আটকাইতে পারিতেনা?
গান্ধারীর বজ্র কঠিন প্রশ্ন শুনে নির্বাক ছিলেন সর্ব শক্তিমান ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
গান্ধারীর অভিশাপে স্ববংশে নিধন হয়ে গিয়েছিল সম্পূর্ণ যদু বংশ।
আর, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর সাথে সাথে জল মগ্ন হয়ে ধ্বংস হইয়া গিয়াছিল সম্পুর্ণ দ্বারকা নগরী।
পূর্বে, ত্রেতায় শ্রীহরি মর্যাদা পুরুষোত্তম রাম রূপে এই মর্ত ধামে অবারিত হন এবং
ঘটনা ক্রমে তিনি পিতা দশরথের বচন রাখিতে চৌদ্দ বছর বন বাসে গমন করেন।
ছদ্ম বেশে রাবণ সীতা মাতা কে হরন করিলে
বানর সেনার সাহায্যে তিনি রাবণ কে সবংশে বধ করিয়া
পৃথিবীকে পুনঃ পাপ মুক্ত করেন এবং
রাম রাজ্য স্থাপন করেন অযোধ্যা নগরীতে।
রাধাকান্ত মন্ডল, নিউ দিল্লী। তারিখ: 16.09.2024 হৃদয়ের স্পন্দনের সাথে লেখা, সৃষ্টির সাথে মিলে মিশে একমাত্র শ্রী হরি ছাড়া এ জগতে কেউ তো আর সর্বগুন সম্পন্য নহে যিনি মহাকাব্য "গীতা" সময় কাল ভুলিয়া মহা